কুরআন-সুন্নাতের আলোকে বিবাহ

cover page

মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান দা. বা. মুহতামিম, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী ঢাকা খলীফা, মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক রহ. আমীর, মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ খতীব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ

মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যালয় : জামেয়া ইসলামিয়া দরুল উলূম মাদানিয়া জামিয়া নগ

১৪০ টাকা মাত্র

0

Book Chapters


  • প্রায় দশ বৎসর পূর্বের লেখা বইটি “কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিবাহ” নামে আমার অতী স্নেহভাজন হাফেয মাওলানা মুহাম্মাদ ওরফে মাসরুর হাসানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রকাশিত হলো। আল্লাহপাক তাকে ইলম, আমল, কর্মস্পৃহা এবং সুস্বাস্থ্যে সমৃদ্ধ করুন। বইটি নিরপেক্ষভাবে মনোযোগের সাথে অধ্যায়নের মাধ্যমে বিশ্ব সভ্যতায়

  • বিবাহের গুরুত্ব
    ইসলাম স্বভাবগত ধর্ম, যে ধর্মে মানুষের অনুভূতি, মানবীয় চাহিদা পূরণের প্রতি এতো অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, এর নজীর অন্যান্য মতবাদ এবং ধর্মসমূহে কেবল বিরলই নয়, বরং তাদের জন্য এরূপ গুরুত্বারোপ করা মোটেই সম্ভব নয়। এটা কেবল ভিত্তিহীন দাবী অথবা ইসলাম ধর্মের প্রতি অযাচিত ভক্তি বিশ্বাসে

  • বিবাহ শাদী
    মানুষের স্বভাবজাত চাহিদার অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে বিবাহ। বিবাহের চাহিদা মানুষের স্বভাবগত চাহিদা। এই চাহিদা পূরণে ইসলামী শরীয়তের বিধান কি এবং কতটুকু স্বভাবসম্মত? এ বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ের সার হিসেবে বলা যেতে পারে যে, উক্ত চাহিদা পূরণের জন্য মহান আল্লাহপাক বিবাহের স

  • এই হাদীস থেকে বিবাহের শরীয়তগত অবস্থান প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে এটাও প্রতীয়মান হয় যে, বিবাহ করা মূলত তাকওয়া হাসিলের জন্য। আর আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভের পথে এটি বাধাতো মোটেই নয় বরং মালিক আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য এবং তাকওয়ার উচ্চস্তরে সমাসীন হওয়ার অন্যতম উপায় নিঃসন্দেহে। সুনানে বাইহাকী এবং মেশকাত শরী


  • আমার আলোচনার অর্থ এই নয় যে, মানুষ পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ও নিজের শক্তি সামর্থ্য ইত্যাদি সবকিছু থেকে চক্ষুবন্ধ করে বুদ্ধিহীনতায় লিপ্ত হবে। আর অর্থ উপার্জনে অক্ষম, স্ত্রীর যথাযথ অধিকার আদায়ের শক্তি একেবারেই না থাকা সত্ত্বেও বিবাহ করণে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এরূপ অক্ষম অবস্থাতেও যদি শরীয়তের পক্ষ থেকে বিবাহ


  • রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বিবাহে অনুপ্রাণিত করেই ক্ষ্যান্ত হন নি, বরং এ ব্যাপারে সঠিক সুন্দরদিক নির্দেশনার জন্য বিস্তারিত বিশদ বিবরণ পেশ করেছেন। যথা: বিবাহের ব্যাপারে প্রথম আসে স্ত্রী নির্বাচনের মাপকাঠি কি হতে পারে। স্বভাবসূলভ নবী এবং ইসলামী শরীয়ত এ ব্যাপারে স্বীয় অনুসারীদ

  • হাসান বছরীর পরামর্শ

    এখানে হযরত হাসান বছরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ উল্লেখ করা উপযুক্ত বরং অত্যন্ত জরুরী মনে হয়। এক লোক তাঁর নিকট হাজির হয়ে বলে যে, আমার মেয়ের বিবাহের জন্য বিভিন্নজন প্রস্তাব করেছেন। কার নিকট বিবাহ দিবো, এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ চাই। উত্তরে তিনি বলেন, যে আল্লাহপাককে ভয় করে তার নি

  • কুফূর বিশদ বিবরণ
    উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় যে, বিবাহের মাধ্যমে একদিকে মানুষের স্বভাবগত চাহিদা মেটানোর সাথে সাথে আল্লাহ পাক স্বীয় ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে চান। এই ইচ্ছার প্রতিফলন উত্তমরূপে তখনই সম্ভব যখন স্বামী স্ত্রী উভয়ের মধ্যে আন্তরিক ভালবাসা এবং সম্পর্ক গড়ে উঠে। অন্যথায় উভয়ের

  • বিবাহের পূর্বে দেখা
    একথা আমাদের আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে যে, বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি উদ্দেশ্যহচ্ছে, মানুষের স্বভাবগত চাহিদার পরিপূর্ণতা অর্জন করা। আর এর জন্য আন্তরিকতা এবং পরস্পর পছন্দের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের দাবী রাখে। এজন্যেই বিবাহের পূর্বে

  • দেখার আশ্চর্য ঘটনা
    বিবাহের জন্য দেখার অনুমতির এক কৌতুহলপূর্ণ ঘটনা হাদীসের কিতাব সমূহে পাওয়া যায়। সাহাবী মুগীরা ইবনে শু’বা রা. বলেন যে, আমি নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে এক মেয়ের নিকট বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার কথা আরজ করলাম, তখন তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যে,
    اذهب فانظر إليها

  • মানব স্বভাবের প্রতি যত্ন

    বিবাহের ক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক চাহিদার প্রতি যতœবান হওয়ার তাকিদেই শরীয়তে এমন মেয়েকে বিবাহ করতে অধিক অনুপ্রাণিত করেছে যে তালাকপ্রাপ্তা অথবা বিধবা নয়। এক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক চাহিদার প্রতি যতœবান হওয়ার সাথে সাথে এই তাৎপর্যও দেখানো হয়েছে যে, বিবাহের অন্যান্য উদ

  • শরীয়তে যে সমস্ত মেয়েদেরকে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে তাদেরকে মুহাররমাত বলা হয়। এই হারাম করার পেছনে কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ বিদ্যমান রয়েছে :

    প্রথমত নিকটতম আত্মীয়তা সম্পর্ক
    আপন বংশের মধ্য থেকে সাধারণত: ঐ সমস্ত মেয়েদেরকে হারাম করা হয়েছে, যাদের সাথে রাত্র দিন উঠা-বসা, চলাফেরা এবং কথাবার্তা বলার প্র


  • মহিলাদের স্বভাবগত শরম লজ্জার প্রতি খেয়াল করে পাত্রী এবং পাত্রীর অভিভাবকদের পরিবর্তে পাত্র অথবা পাত্র পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেশ করাই উত্তম। এমনিভাবে প্রস্তাব সরাসরি পাত্রীর নিকট না করে পাত্রীর অভিভাবকের নিকট প্রস্তাব পেশ করবে। তাদের পক্ষ থেকে যদি সামান্য অনীহা প্রকাশ পায় তাতে প্রস্তাবকারীর মনক্ষু

  • বিবাহ পদ্ধতি
    উপযুক্ত প্রস্তাব এলে বিবাহ সম্পাদনে বিলম্ব করা ঠিক নয়। এক হাদীসে বলা হয়েছে যে,
    من بلغت ابنته اثنتي عشرة سنة ولم يتزوجها فاصابت اثما فانما اثمه علي ابيه
    যার মেয়ের বয়স ১২ হয় আর বিবাহ না দেয়, এতে যদি সে গোনাহে লিপ্ত হয়। তাহলে সেই গোনাহের জন্য তার পিতা সম্পূর্ণরূপে দায়ী। (মিশকাত ২/২৭১)
    তিরমিযি শরীফের হাদীসে এ

  • মহরের পরিমাণ
    স্বাভাবিকভাবে বিবাহ সম্পাদনের বেলায় সকলের জন্য রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নসীহত
    ان اعظم النكاح بركة ايسره مؤنة (مشكوة)
    সর্বাধিক বরকতময় বিবাহ হচ্ছে যে বিবাহে মাল সম্পদ যথাসম্ভব কম খরচ হয়, যাতে সমস্যায় পতিত হতে না হয়।
    এই অমূল্য নসীহত সম্মুখে থাকা চাই। বিশেষ করে মহর নির্ধারন

  • বিবাহের খুতবা
    বিবাহের নিয়ম অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং সহজসরল করা হয়েছে। আসল কাজ হচেছ ইজাব-কবূল। বিবাহ সম্পাদনের জন্য ইজাব এবং কবূলই যথেষ্ট। তবে সুন্নত হলো এই যে, শুরুতে খুৎবা পড়ে নেয়া। স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং শান্তির জীবন গড়ে তোলা, উভয়ের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতির প্রয়োজনীয়তা, আল্লাহ পাকের ভয় এবং র

  • বিবাহের বয়স
    বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে কারো জন্য শরীয়ত কর্তৃক কোন বয়সের সীমারেখা নির্ধারিত হয় না, যে বয়সের আগে পরে বিবাহ হতে পারে না। এক্ষেত্রেও অভিভাবকদের চিন্তা ভাবনা এবং সুবিধা অসুবিধার বিবেচনা করার অবকাশ দেয়া হয়েছে। কেননা অনেক সময় অল্প বয়সে বিবাহ দেয়া এবং করানোর মধ্যে উপকারিতার অবকাশ থাকে অথব

  • আনন্দ উল্লাস
    বিবাহের মুহূর্তে আনন্দ-খুশী প্রকাশ মানুষের স্বভাবগত ব্যাপার মানুষের স্বভাবগত এই চাহিদার প্রতি শরীয়ত যথাযথ স্বীক”তি প্রদান করে শরীয়তের গণ্ডির ভিতর থেকে আনন্দ উল্লাসের কেবল অনুমতিই নয় বরং অনুপ্রানিত করেছে। এক হাদীসে পাওয়া যায় যে, হযরত আয়শা সিদ্দকার তত্ত্ববধানে এক মেয়ের বিবাহ সম্পাদি

  • ওলীমা করা সুন্নত
    বিবাহের পর স্বামী পক্ষকে ওলীমা করার প্রতি অনুপ্রাণিত করা হয়েছে, অনেকেই তো ওলীমা কে ওয়াজিব বরং অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে কারো কোন মতবিরোধ নেই। ওলীমার বিধানে একদিকে বিবাহের মুহূর্তে আনন্দের বিষয়টিকে লক্ষ রাখা হয়েছে, অপর দিকে বহুবিদ সামাজিক উপকারিতাক

  • আত্মমর্যাদার স্বভাব
    হযরত শাহ ওলীউল্লাহ বলেন, কেবল মানুষই নয় বরং চতুষ্পদ পশুর মধ্যেও আত্মমর্যাদার অনুভূতি বিদ্যমান রয়েছে, তাই কোন দিন কোন পশু জানোয়ারও নিজের স্ত্রীর মধ্যে অংশীদারিত্ব কে মেনে নেয়না এবং নিতে পারে না। এই অনুভূতি মানুষের মধ্যে চরম এবং সর্বাধিক। এ কারণেই নিজের স্ত্রীর বেলায় অন্য কারো স

  • প্রথাগত বিবাহ
    বুখারী শরীফ এবং হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে হযরত আয়শা সিদ্দীকা কর্তৃক এক দীর্ঘ হাদীসে জাহেলী যুগের প্রথাগত বিবাহের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। হযরত আয়শা রা. বলেন, সেই যুগের চার ধরনের বিবাহ প্রথা সমাজে চালু ছিল।
    ক. চারটির মধ্যে একটি যা ইসলামে স্বীকৃত হয়েছে।
    খ. দ্বিতীয়টি হচ্ছে, স্বামী তা

  • স্বামী-স্ত্রীর অসমতার পরিণাম
    বিবাহের মুহুর্তে স্বামী স্ত্রী উভয়ের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্ক স্থাপনের বিধি-বিধানের গুরুত্ব থাকার পরও পরবর্তী অনেক সময় উভয়ের মধ্যে সু সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না এবং কোন ক্রমেই দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তির পথ সুগম হয় না। এমতাবস্থায় দূরদর্শীতার দৃষ্টিতে অশান্তি এবং তিক্ততার এই দ

  • অন্যান্য ধর্মে বৈবাহিক জীবন

    বিবাহ সম্পর্কিত ইসলামী বিধি-বিধান অবগতির পর মানবজীবনের অন্যতম বিষয় বৈবাহিক সম্পর্ক সম্বন্ধে অন্যান্য ধর্মের অবস্থান তোলে ধরা উচিত হবে বলে মনে হয়, তাতে ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য অতি সহজেই অনুমেয় হবে।
    খৃষ্টানদের বৈবাহিক জীবন
    পৃথিবীর সর্

  • ইউনানী বৈবাহিক জীবন

    ইউনানী বিধানে নারীর মর্যাদা ছিল সাধারণ দ্রব্যাদীর বেচা-কেনার ন্যায়।তাদেরকে অবাধে বাজারে বেচা কেনা করা হতো,এমনকি পিতা স্বয়ং নিজের মেয়েকে বাজারে বিক্রি করতো এবং হবো স্বামী ক্রয় করেনিত।( مدي حرية الزوجين)
    স্বামী কর্তৃক নারীর কোন অধিকার মোটেই স্বীকৃত ছিল না। তারা উত্তরাধিকারী হওয়

  • রোমান বিধি-বিধান

    রোমান বিধানের এই দিকটি অত্যন্ত আশ্চর্য্য জনক এবং ভয়ানক ছিল। বংশের অথবা গোত্রের উপর গোত্র প্রধানের চুড়ান্ত অধিকার স্বীকৃত ছিল। স্বীয় স্ত্রী, আপন মেয়ে, পুত্রবধু, এমনকি নাতিনদেরকে বেচাকেনা করার অধিকার গোত্র প্রধানের হতো। তার ইচ্ছায় তাদেরকে দেশান্তর বরং কতল করারও আইনত অধিকার ছিল।

  • হিন্দুদের বৈবাহিক জীবন

    হিন্দু ধর্ম অনেক পুরানো ধর্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম মনে করা হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রথানির্ভর এই বিশেষ প্রকৃতির জীবন বিধানে বৈবাহিক আচার এবং রীতিনীতির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বটে, কিন্তু নারীদের পবিত্রতা রক্ষা এবং একই স্বামীর স্ত্রী হিসেবে অংশীদারবিহীন ব্যবস্থাপনার কোন

  • নিয়োগ প্রথার সূত্র

    মিষ্টার জান্ডিম্যান আরিয়া সম্প্রদায় ব্যতীত অন্যান্য হিন্দুদের মধ্যে নিয়োগ প্রথা শিরোনামে অনেক উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। তিনি বলেন, হিন্দুস্থানে আরিয়া সম্প্রদায় ব্যতীত অন্যান্যদের মধ্যে এই নিয়োগ প্রথা আদিকাল থেকেই চালু ছিল এবং বর্তমানেও চালু রয়েছে। নায়রুন এলাকায় বিবাহের পর নারী

  • ইসলামে একাধিক স্ত্রীর বিধান

    ষড়যন্ত্রকারীরা বৈবাহিক বিধি-বিধানের একাধিক বিষয়ের প্রতি সমালোচনার হাত প্রশস্ত করে চলেছে, তবে বর্তমানে একাধিক স্ত্রীর অনুমতি বিধানের সর্বাধিক কঠোর সমালোচনা করা হয় বরং এ ব্যাপারে ভৎসনাও করা হয়। আবার অনেক অবিবেচক কাণ্ডজ্ঞানহীন লোকেরা ‘একাধিক বিবাহ’ আইনকে জুলুম অত্য


  • সাধারণভাবে অনভিজ্ঞ মহলে এই ধারণা বিদ্যমান আছে অথবা তাদেরকে এরূপ ধারণা দেয়া হয়েছে(আর হতে পারে কোন অবিবেচক মুসলমান অথবা এ ধরনের কতিপয় নামধারী মুসলমানের আমল আখলাকের কারণে এই ধারণা করা হয়) যে, যে কোন ব্যক্তি কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই চারজন করে স্ত্রী রাখতে পারবে, অথচ ইসলামী আইন বিধান সম্পর্কে যার ন্যুন্নতম জ

  • সমালোচনাকারীদের দাবী
    যারা একাধিক বিবাহ বিধানের সমালোচনা করে অথবা অত্যন্ত সীমিত আকারে অনুমতির পূর্বে কঠোর শর্তারোপের দাবী করে এবং বলে যে, শর্ত পুরো না হলে বিবাহ অকার্যকর বলে গণ্য হবে এবং বিবাহ করার উপর আইনত পাবন্দী করা বাঞ্চনীয়। তাদেরকে একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে যে, এমন কোন মানদণ্ড বা কম্পিউটার আছে ক

  • অধিকার আদায়ের জন্য শর্তাবলী

    প্রত্যেক মানুষ নিজে নিজের অবস্থা, স্বভাব এবং সামর্থ সম্পর্কে যতটুকু অবগত এবং অনুভব করতে পারে অন্যের ব্যাপারে মোটেই ততটুকু অবগত হতে পারে না । একারণেই শরীয়ত মানুষকে আল্লাহ পাকের আদালতে জবাব দিহিতার প্রতি হুশিয়ারি বাণী উচ্চারণ করত: মানুষের প্রতি এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে

  • এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কোন কোন লিখকের মতে স্বামী কর্তৃক জুলুম অত্যাচার সাব্যস্ত হলেও হানাফী মাজহাবে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুমতি নেই। আসলে এ উক্তি সঠিক নয় এবং বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত মাজহাবের এরূপ যুক্তিহীন সিদ্ধান্ত মোটেই হতে পারে না। হ্যাঁ, কতিপয় লোকের মতামত এরূপ হতে পারে।কিন্

  • এ সম্পর্কে বিস্তারিত অবগতির জন্য কিতাবাদি অধ্যায়ন করা জরুরী। এখানে মালেকী মাজহাবের প্রসিদ্ধ আলেম ইবনুল আরাবীর উক্তি উদ্ধৃতি করা হলো তিনি বলেন-
    اذاكانت الاسائة من قبل الزوج فرق بينها
    “যদি স্বামী তার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করে তাহলে উভয়ের মাঝে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দিবে।”
    এই সমস্ত ব্যাপারে বিস্তারিত


  • তবে সমস্ত স্ত্রীদের সাথে সদাচরনে সমতা রক্ষা করার এই নির্দেশ বাহ্যিক বিষয়াদি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। আর আন্তরিকতা এবং মনের স্বভাবগত অনুরাগ,কারো প্রতি অধিক আকর্ষণের ব্যাপারে শরীয়ত কর্তৃক কোন প্রকার পাবন্দী করা হয় নাই,বরং পাবন্দী করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং স্বভাব বিরোধী। কেননা মানুষের স্বভাব এবং ম

  • সমালোচনাকারীদের উক্তি

    যারা একাধিক স্ত্রী রাখাকে যুক্তিযুক্ত মনে করে না, তাদের মধ্যে এমন লোকও আছেন যারা নিজেদেরকে ইসলামী আইনকানূনে পারদর্শী এবং কুরআন হাদীসের জ্ঞানে জ্ঞানী মনে করেন। তাদের জন্য ঐ সমস্ত আয়াত এবং হাদীসসমূহ অস্বস্থির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে গুলির দ্বারা একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি স

  • চারজন স্ত্রী রাখার সূত্র

    পবিত্র আয়াত এবং অসংখ্য হাদীসের দ্বারা ইনসাফের শর্তে চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অনুমতি সাব্যস্ত হয়। এবং এই অনুমতি কোন সময় রহিত হয়নি এবং হওয়ার নয়। এ ব্যাপারে উম্মতের ঐক্যমত রয়েছে। আল্লামা মুফাসসির আলোসী বলেন-
    ما يشعربه السياق من التوسعة ووجه اشعاره بذالك انه اطلق قوله سبحانه ماطاب لكم من النساء ثم

  • এই মুহূর্তে একাধিক স্ত্রী রাখার ব্যাপারে শিয়া সম্প্রদায়ের মতামত উল্লেখ করা সমীচীন মনে করি। ইতিপূর্বে বলা হয়েছে যে, এক শ্রেণীর লোকেরা এই আয়াতের দ্বারা একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি রহিত করণ সাব্যস্ত করে থাকে, অপর পক্ষে শিয়া সম্প্রদায়গণ এই আয়াতের দ্বারাই চারের মধ্যে সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করে এর অধিক স্ত


  • এখানে শিয়া এবং জাহেরী সম্প্রদায়ের মত উল্লেখ করার উদ্দেশ্য মোটেই তাদের সমর্থন করা নয়, আর এরূপ বিভ্রান্তকর মতকে সমর্থনের প্রশ্নই আসে না বরং এই দুই সম্প্রদায়ের মতামত উল্লেখ এজন্য করা হয়েছে যে, আলোচ্য আয়াতের দ্বারা যারা একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি সীমিত করণ সাব্যস্ত করে থাকে তাদের বুঝা উচিত যে, আরবী ভাষ


  • যারা একাধিক বিবাহের অনুমতির পক্ষে নয় তাদের অনেকে আয়াতের এমন অর্থ করে থাকে যা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। যেমন বলে থাকে যে, এতীম নাবালেগাদের সাথে একাধিক বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে, অন্যদের বেলায় এর অনুমতি নাই, আর এর উদ্দেশ্য হচ্ছে অভিভাবকদের সমস্যার সমাধান করা।
    অথচ স্বয়ং যার প্রতি ওহী নাযিল হয়ে


  • একাধিক বিবাহের প্রয়োজনীয়তা উপকারিতা এবং তাৎপর্য সম্পর্কে কিছুকথা লেখা প্রয়োজন, যাতে যারা কেবল একাধিক বিবাহের অপকারিতা এবং ক্ষতি সম্পর্কেই অবহিত, তাদের সম্মুখে উপকারিতার দিকসমূহও উন্মোচিত হয়। তবে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহপাক সর্বজ্ঞানী অসীম হেকমতের মালিক। তাই তার হুকুম আহকামের তত্ত্ব রহস্য এবং তা

  • সমালোচকদের মেধা

    এই মুহূর্তে তিক্ত হলেও যে বিষয়টি পরিস্কারভাবে বলা প্রয়োজন তা হলো, একাধিক বিবাহ সম্পর্কে যারা সমালোচনা করে তাদের মেধা এবং বোধ-বুদ্ধি, যিনা এবং ব্যাভিচারের মত নির্লজ্জ অপরাধকে মোটেই অপরাধ মনে করে না। তাদের নিকট যিনা কোন অপরাধই নয়। তা না হলে জ্ঞানী মাত্রই উপলব্ধি করতে পারে যে, এক স্ত

  • একাধিক বিবাহের অপকারিতা
    একাধিক বিবাহের কোন ধরনের অপকারিতা মোটেই নেই এ দাবী আমরা করি না এবং করবোও না। এতে অবশ্যই কোন কোন দিক ক্ষতিরও থাকতে পারে বরং রয়েছে। কিন্তু আমাদের এই সত্যকে উপলব্ধি করতে হবে যে, পৃথিবীর প্রত্যেক আইন-বিধানের মত শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রেও ভাল মন্দের আধিক্যকে মাপকাঠি নিরূপন ক


  • তবে জুলুমের হার যতই কম হোক না কেন এর নিরসনের প্রচেষ্টা করা জরুরী। তাই এ সম্পর্কে কিছু সমাধান দেয়া হচ্ছে। আসলে ভদ্র পরিবারের মধ্য থেকে তারাই সাধারণত দ্বিতীয় বিবাহ করতে হিম্মত করে যারা দৈহিক শক্তির সাথে সাথে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী। এই বিষয়টিকে সম্মুখে রেখে বলা যায় যে,
    ১. দ্বিতীয় বিবাহের মুহূর্ত

  • সমান অধিকারের প্রপাগাণ্ডা
    জাতীসংঘ সনদে নারী পুরুষ সমান অধিকারের প্রস্তাব গ”হিত হয়েছে। এর দোহাই তুলে অনেকেই ইসলামী আইন বিধানের উপর আপত্তি উত্থাপন করে থাকেন, তাদেরকে প্রশ্ন করা যেতে পারে যে, সমান অধিকারের মাপকাঠি অথবা সংজ্ঞা কী? নারী পুরুষ সৃষ্টি এবং স্বভাবগত পার্থক্য বাকী রেখে সর্বাবস্থায় সর্বক্ষ

  • স্ত্রীর ভরণ পোষণ
    পৃথিবীর অনেক সমৃদ্ধশালী দেশে আইন রয়েছে যে, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর। কিন্তু এমন কোন আইন কোন দেশেই চুড়ান্ত হয় নি যে, স্বামীর ভরণ পোষণের দায়িত্ব স্ত্রীর উপর। মূলত নারী পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান সৃষ্টি ও স্বভাবগত পার্থক্যই এর কারণ । এমতাবস্থায় তাদেরকে জাতীসংঘ সনদে বর্ণি

  • ওলামাদের বক্তব্য
    মুফাসসির কাজী সানাউল্লাহ রহ. তাফসীরে মাজহারীতে উক্ত আয়াতের তাফসীর করে বলেন, নারীদের উপর পুরুষের দুই কারণে প্রাধান্য রয়েছে-
    بما فضل الله بعضهم علي بعض- يعني علي النساء في اصل الخلقة بكمال العقل وحسن التدبير وبسطة في العلم والجسم ومزيدالقوة في الاعمال وعلو الاستعداد ولذالك خصوابالنبوة والامامة وزيادة السهم في الارث ومالكية النكاح وتعدادالمنكوحات وا

  • প্রতিযোগিতার বিধান

    তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং প্রতিযোগিতার এই শর্ত এবং নিয়ম সর্বক্ষেত্রে স্বীকৃত হলেও দাম্ভিকতা এবং হঠকারিতা অনেক ক্ষেত্রে এই নিয়মের অনুসরণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নারী পুরুষদের তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পরশ্রীকাতরদের এ ধরনের নজীর বিরল নয়। কতিপয় বুদ্ধিজীবি নারী ও পুর

  • সমান অধিকারীদের উক্তি

    সমান অধিকারের দাবীদারগণ স্বীয় মতামতের পক্ষে এমন একটি প্রমাণেরও অবতারণা করে থাকে, যা উল্লেখ করা অত্যাবশ্যক এবং আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মানুষের জন্য অস্বস্তিকরও বটে যে,পুরুষদেরকে একাধিক স্ত্রী রাখার অধিকার দান করে মহিলাদেরকে একাধিক স্বামীর স্বাদ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা মূল


  • নসব সম্পর্কিত আহকাম এতো অধিক যা গননা করা কঠিন। ওয়ারিছ, বিবাহ সম্পর্কিত হালাল- হারাম, ভরণ পোষণ, আত্মীয়তার অধিকার ইত্যকার বিষয়াদির সম্পর্ক নসবের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। এ জন্যেই নসব সম্পর্কে, বংশের আগে-পরের সূত্রাদী সম্পর্কে জরুরী জ্ঞান অর্জনের জন্য হাদীসে পাকে হুকুম করা হয়েছে। ইমাম তিরমিজি তার প্রসিদ্

  • পাশ্চাত্য পণ্ডিতের অভিমত

    শরীয়ত তথা কুরআন হাদীস এবং মুসলিম উম্মাহর গবেষকদের মতামতের যথার্থতা এখন পশ্চিমা পণ্ডিত এবং স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের নিকটও স্বীকৃত হয়ে চলেছে। বিশ্বকোষে ডক্টর দোকারিনী বলেন, দেহগতভবে নারীগণ পুরুষের তুলনায় তিনভাগের এক ভাগ দুর্বল হয়। স্বভাবগতভাবেও মহিলাগণ দুর্বল এবং সমতাহ

  • তালাকের বিধান

    মুসলমানদের বৈবাহিক বিধি-বিধানের মধ্যে তালাকের বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ ব্যাপারে সমালোচনাকারীগণ বলে থাকে যে, ইসলামে পুরুষদেরকে তালাকের ব্যাপারে বল্গাহীনভাবে অধিকার দেয়া হয়েছে এবং এই অধিকার থেকে মহিলাদের সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করে জুলুম করা হয়েছে। সামাজিকভাবে অধিক তালাকের কারণে এই মা

  • নারীর তালাকের অধিকার

    হ্যাঁ একথা বাস্তব যে, স্বামীকেই শুধু তালাকের অধিকার দেয়া হয়েছে স্ত্রীকে সরাসরি তালাকের অধিকার দেয়া হয় নাই। এর আসল ইল্লত এবং কারণ আল্লাহপাকই জানেন। মানুষের পক্ষে এর কারণ সমূহ জানা সম্ভব নয় এবং প্রয়োজনও নাই, তবে যতটুকু হেকমত এবং তাৎপর্য অতি সহজেই প্রতীয়মান হয় তার মধ্যে অন্যতমঃ

  • মহিলা স্বভাব

    মহিলাদের অনুভূতি শিশুদের মতই উচ্ছ্বাসপ্রবণ। যে কোন কর্ম-ক্রিয়া, প্রভাব অতি সহজেই তাদের ভেতর দাগ কাটে। তাদের জ্ঞানও সে ক্ষেত্রে হার মেনে অতীতের কথা ভুলে যায়। তাদের এই স্বভাবের কথা পবিত্র হাদীসেও বলা হয়েছে বুখারী শরীফের হাদীসে আছে-
    لو احسنت الي احدهن الدهر ثم رأت منك شيئا قالت مارئيت منك خيراقط
    তোমর

  • মহিলাদের অধিকার না থাকার উপকারিতা
    মহিলাদেরকে তালাকের অধিকার না দেয়ার মধ্যেই রয়েছে উপকারিতা ও কল্যাণ। এ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ হানাফী ফকীহ ইবনে হুমামের বক্তব্য অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য তিনি বলেন,
    جعله بيد الرجال دون النساء لاختصاصهن بنقصان العقل وغلبة الهوى ، وعن ذلك ساء اختيارهن وسرع اغترارهن ونقصان الدين ، وعنه كان أكثر شغلهن بالدنيا وترتيب المكا

  • তালাকের পূর্বে করণীয় কাজ
    যদি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বনি বনা না হয়, অথবা স্ত্রী আনুগত্য করে না, স্বামীর হক আদায় করে না, সম্মত হয় না কিংবা অত্যন্ত রাগী অসদাচরণ করে। এমতাবস্থায় ত্বরিত তালাক না দিয়ে সর্বশেষ সমঝোতার জন্য চেষ্টা করতে বলা হয়েছে, আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
    وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُ

  • বংশীয় মর্যাদার প্রতি গুরুত্ব আরোপ
    স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টির দায়িত্ব আত্মীয় স্বজনদের উপর ন্যস্ত করার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে মানবিকতা এবং বংশীয় মর্যাদা সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কেননা বিচারকের সম্মুখে বিস্তারিত অবস্থা উপস্থাপন করতে হয়। অথচ একথা সকলেরই জানা যে, স্বামী-স্ত্রীর

  • তালাক থেকে রুজু করার নির্দেশ
    এখানে আরো একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন যে, এ ব্যাপারে কেবল অনুপ্রাণিত করেই ক্ষ্যন্ত হয় নাই, বরং শরীয়ত এ ব্যাপারে আইনতভাবে ঋতু অবস্থায় তালাক দেয়াকে নিষেধ করেছে। এবং তিন তালাক দেয়ার পর ইদ্দত থাকাবস্থায় তালাক থেকে রুজু করার জন্যও নির্দেশ করেছে। হাদীসের নির্ভরযোগ্য কিতাব সমূ

  • আদালতের সিদ্ধান্ত
    একথা বলার মোটেই অবকাশ নেই যে, বিরোধপূর্ণ বিষয়াদিতে কাজী এবং হাকিমের সিদ্ধান্তের পরিণামে হারাম রহিত হয়ে যায়। কেননা এরূপ মৌলিক কঠিন বিষয়াদির জন্য যথেষ্ট শর্ত শরায়েত রয়েছে। তাছাড়া ইবনে হুমাম এবং ইবনে নুজাইম পরিস্কারভাবে বলেছেন যে, হাকীমের এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
    যারা চরিত

  • আর্থিক জরিমানা
    মনে রাখতে হবে যে, আর্থিক জরিমানার কথাটি কেবল ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়। আর তাও অত্যন্ত— দুর্বল সূত্রের মাধ্যমে। অপরপক্ষে জমহুর অর্থাৎ অধিকাংশ ফকীহদের মতে আর্থিক জরিমনার হুকুমটি রহিত করা হয়েছে। সুতরাং এই বিধান কার্যকর করার অবকাশ আর নেই। অনেকের মতে অপরাধীর নিকট থেকে অর্থ

  • পরিত্যক্ত সম্পদ
    পরিত্যক্ত শব্দের দ্বারা একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর সে যে সহায় সম্পত্তি রেখে যায় সেই সম্পত্তির বন্টন বিধানকে উত্তরাধিকার বিধান বলে। এতে বুঝা যায় যে, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মাল সম্পদে উত্তরাধিকারীর অধিকার লাভ হয় না। বরং মৃত্যুর পরই এই অধিকার অর্

  • জ্ঞানের আলোকে পর্যালোচনা
    সংশোধনী সম্পর্কে শরীয়তের সুস্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই আইন কার্যকর করার অবকাশ শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেই নাই। বরং যুক্তি-জ্ঞানের আলোকেও এর অবকাশ আছে বলে মনে হয় না। তবে মনে রাখতে হবে যে, সকলের জ্ঞান সমান হয় না এবং হতে পারে না। উপরন্তু এই বিষয়টি

  • মা দাদার অবর্তমানে দায়িত্বভার
    মা জননী এবং দাদার অবর্তমানে এতীম অসহায়দের দায়িত্বভার চাচা এবং এতীমদের উত্তরাধিকারীদের উপর অংশভিত্তিক দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মনে করুন, যদি এতীম মৃত্যু বরণ করে তাহলে এতীমের পরিত্যক্ত সম্মতির যারা অধিকারী হবে এবং যে সূত্রে যে পরিমান অধিকারী হবে, সেই সূত্রে সেই পরিমান লালন প

  • অসীয়তের বিধান
    এতীমদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য উপরোক্ত বিধি-বিধান ব্যতীত আর একটি উত্তম ব্যবস্থা অসিয়তের নামে বিদ্যমান রয়েছে। যারা উত্তরাধিকারী হয় তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। কেননা হাদীসে বলা হয়েছে لا وصية لوارث আর যারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির অংশীদার হয় না তাদেরকে উত্তরাধিকারীর সমপরিমান অংশের


  • সাধারণত নারীদের উপর নিজের এবং অন্য কারো ভরণপোষণের অথবা অন্য কোন প্রকার খরচ বহনের দায়িত্ব রাখা হয়নি। উপরন্তু তাদের বিভিন্নভাবে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।
    ১. মা জননী হিসেবে তারা কোন সময় ৩ ভাগের ১ ভাগ আবার কোন সময় ৬ ভাগের ১ ভাগ পায়।
    ২. দাদী হিসেবে কোন সময় ৩ ভাগের ১ ভাগ আবার কোন সময় ৬ ভাগের ১ ভাগ পায়, অথবা এ

  • মারলীনের পত্র
    যারা পাশ্চাত্যের নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রলুব্ধকর ডাকে সাড়া দিয়ে সতীত্বসহ সবকিছু হারিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্তে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে এবং নারী সমাজকে স্বাধীনতার নামে গোলামীর কলকংকময় জীবন যাপনের ভুলের প্রতিকার করতে চেয়েছে এবং নারী সমাজকে সতর্ক করেছে তাদের অন্যতম হচ্ছে মারলীন মো


  • কিন্তু গভীরভাবে এই আয়াতে চিন্তা করলে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত প্রস্তাবের প্রতি এই আয়াতের কোন সমর্থন নেই। কেননা وَمَتِّعُوهُنَّ এর দ্বারা ঐ সমস্ত তালাক প্রাপ্তাদেরকে বুঝানো হয়েছে,যাদের বিবাহের সময় কোন প্রকার মহরানা নির্ধারিত করা হয় নাই। অথবা স্বামী স্ত্রী মিলন হয় নাই অথচ তালাক দেয়া হয়েছে। আলোচ্য আয়াতের বা

  • বিধবার অধিকার
    ইসলাম বিদ্বেষীদের কেউ কেউ বলে থাকে যে, হানাফী মাজহাবে মৃত স্বামীর সম্পদে বিধবার কোন অধিকার রাখা হয় নাই। অথচ কথাটি একেবারেই ভিত্তিহীন। কেবল হানাফী নয় বরং সকল মাজহাবেই পবিত্র কুরআনের ভিত্তিতে স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে বিধবা স্ত্রীর অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়

  • স্ত্রীর অংশের পরিমান
    অনেকে এই বলে সমালোচনা করে যে, স্ত্রীকে কেবল অষ্টভাগের এক ভাগ প্রদান করা হয়, যা ন্যয়সম্মত নয়। অথচ ব্যাপক ভাবে এই উক্তি সঠিক নয়,কারন যদি সন্তানাদি থাকে কেবল তখনই আটভাগের এক ভাগ দেয়া হয়। অন্যথায় যদি স্বামীর কোন সন্তানাদি না থাকে তাহলে স্ত্রী চার ভাগের এক ভাগ অংশের অধিকারী হয়। কুরআন শ

  • স্ত্রীর অংশের পরিমান
    অনেকে এই বলে সমালোচনা করে যে, স্ত্রীকে কেবল অষ্টভাগের এক ভাগ প্রদান করা হয়, যা ন্যয়সম্মত নয়। অথচ ব্যাপক ভাবে এই উক্তি সঠিক নয়,কারন যদি সন্তানাদি থাকে কেবল তখনই আটভাগের এক ভাগ দেয়া হয়। অন্যথায় যদি স্বামীর কোন সন্তানাদি না থাকে তাহলে স্ত্রী চার ভাগের এক ভাগ অংশের অধিকারী হয়। কুরআন শ

  • ইসলামের প্রথম যুগ
    বুখারী শরীফে একসাথে তিন তালাক হয়ে যায় শিরোনামে অধ্যায় কায়েম করে ইমাম বুখারী সাহাবী উয়াইমের এবং হযরত আয়শার সূত্রে দুইটি হাদীস রেওয়ায়েত করেছেন। হযরত উওয়াইম সাহাবীর হাদীসে طلقها ثلاثا বাক্যটি প্রণিধান যোগ্য। আর হযরত আয়শার হাদীসে বলা হয়েছে যে,
    أن رجلا طلق امرأته ثلاثا، فتزوجت فطلق، فسئل النبي صلى الله

  • আইনের অজুহাত
    বর্তমান যুগের কিছু সংখ্যক আইনজ্ঞ নারীমুক্তির ঝাণ্ডাধারীগণ দাবী করে থাকেন যে, তিন তালাক দেয়ার অধিকারকে আইনত রহিত করা প্রয়োজন। যদি কোন তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা স্বামীর তিন তালাকের কার্যকারিতার বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়, তাহলে তিন তালাকের কার্যকারিতা আইনত অকার্যকর ঘোষণা করে আদালতে

  • ওহীর প্রকারভেদ
    এই কারণেই মুসলিম মনীষীগণ পরিস্কারভাষায় বলেছেন যে, মূলত: ওহী দুই প্রকার। মাতলু এবং গায়রে মাতলু, প্রথম প্রকারকে কুরআন এবং ২য় প্রকারকে হাদীস বলা হয়। উসূলে ফেকাহের কিতাব যেমন: নুরুল আনোয়ার-৮ কাশফুল আসরার-৯, তাহকীক-৫, সহ অসংখ্য হাদীস,তাফসীরের কিতাব সমূহে ওহীর এই প্রকারভেদের কথা বর্ণিত রয়েছে

Share