জামিয়াতুস সুন্নাহ’য় দাওয়াতুল হকের ইজতিমা অনুষ্ঠিত

গত ২৭শে মার্চ জামিয়াতুসসুন্নাহ মাদারীপুরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার মজলিশে দাওয়াতুল হকের ইজতিমা ও মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল। মাদরাসার মুহতামিম হযরতুল আল্লাম মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ ফরিদী সাহেবের আহ্বানে একত্রিত সারাদেশে শীর্ষস্থানীয় আলেমকুল ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ জনগণ। ইজতিমায় প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশে আমির, মুহিউসসুন্নাহ শাহ আবরারুল হক (হযরতওয়ালা হারদুয়ী) রহ.এর অন্যতম খলিফা মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান সাহেব দা.বা.।

২৬শে মার্চ বিকেল থেকেই শিবচরে ভিড়তে থাকে মানুষ। সুন্নতি জীবন-যাপনের তাগিদে মানুষের এই অনুরণন ছিল চোখে ধরার মতো। ২৭শে মার্চ কুরআনে কারিম তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ৯টা হতে শুরু হতে যাওয়া লাখো লাখো আদমের এ বিশাল সমাবেশে হযরত মাওলানা আশরাফ আলি থানভি রহ. প্রতিষ্ঠিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও উলামাদের দীনি সংস্কারমূলক অরাজনৈতিক সংগঠন-মজলিসে দাওয়াতুল হকের পরিচিতি-কার্যক্রম ও গুরুত্ব সম্বন্ধে বয়ান করেন মুহিউসসুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহ.এর খলিফা মুফতি মনসূরুল হক সাহেব দা.বা.। এরপর আযান-ইকামতের মশক করান হযরত মাওলানা মুফতি হিফজুর রহমান সাহেব দা.বা.।

পিতা-মাতার হক সম্বন্ধে নিদারুণ বক্তব্য রাখেন হযরত মাওলানা আহমাদ ঈসা সাহেব দা.বা.। এরপর শুরু হয় জুমআর বয়ান। জুমআর খুতবা ছিল দীর্ঘ। ছিল সুন্নতের ব্যাপ্তী ও আলোকরশ্মি। বাদ জুমআ বয়ান করেন পীরসাহেব চরমোনাই সৈয়দ ফয়জুল কারীম সাহেব দা.বা.। সুনিপুণ কৌশলে তাসাওউফভিত্তিক মুখনিসৃত তার বয়ান হাজারো মুহিব্বিনের অন্তর তড়পাতে শুরু করেছিল। এরপর নামাযের ‘তাকবিরে তাহরিমা সে সালাম তক’ আমলি মশক করানো হয়।

বাদ আছর বয়ান করেন মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ দা.বা.। বাদ মাগরিব হযরত মাওলানা নুরূল ইসলাম ওলীপুরি দা.বা. বয়ান করেন। তিনি মানবজীবনে সুন্নতের প্রতিফলন সফলতার শ্রেষ্ঠ পাথেয় বলে অভিমত প্রকাশ করেন। প্রায় দেড় ঘন্টার বয়ানে সমাজের বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও আহলে হাদিসদের ফেতনা চিহ্নিত করে সুন্নতি জীবনযাপনে আহ্বান করেন তিনি।

মাহফিলের বিশেষ আকর্ষণ ছিল আমিরে দাওয়াতুল হক মুহিউসসুন্নাহ হযরতের সুন্নতদীপ্ত বয়ান। সুন্নতহীন কর্মকাণ্ড বিপদগামীতার প্রধান কারণ বলে অভিহিত করেন তিনি। এছাড়াও হযরত ওমরের যুগে ‍যুদ্ধে সুন্নত ছেড়ে দেয়ার অসফলতা পরে ফের মিসওয়াকের মতো সুন্নত জিন্দা করায় যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার নজির শামিয়ানার কানায় কানায় বসা লাখো মানুষদেরকে সুন্নতসিক্ত করেছে। সুন্নতি জীবন-যাপনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে অনেককেই। হযরতের পুরো কথায় ছিলো দরদ। আবেগ ও জ্বলন। সেই দরদলিপ্ত আবেগ ও জ্বলনে ইশকে মাওলা ও সুন্নতে রাসূলের অমীয় শুরা পানে ধন্য হয়েছে আগত আলেমকুল ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

এরপর মাদরাসার বিগত বছরের ফারেগীন ছাত্রদের দস্তারে ফযিলত প্রদান করেন মুহিউসসুন্নাহ হযরত। সবশেষে তিনি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে তামাম মুসলমানদের জীবনে সুন্নত প্রতিফলনে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রমের সফলতা প্রার্থনা করে আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে আকুতি জানান।